গঙ্গাদা, গঙ্গাপদ বসু, নিপাট ভালোমানুষ, সাতে পাঁচে নেই, তাঁকে নিয়েও ছবিদা একবার পড়েছিলেন। ব্যাপারটায় আমি একটু অবাক হয়েছিলাম। কারণ, বিনা কারণে ছবিদা কখনও কারও পেছনে লাগতেন না। অনেক পরে জেনেছিলাম তখনকার দিনের কয়েকজন,অ্যামেচার থিয়েটারের মহারথী অভিনেতা প্রফেশনাল থিয়েটার নিয়ে বেশ কিছু বিদ্রূপ ও অত্যন্ত জঘন্য মন্তব্য করেছিলেন, তাদের তো হাতের কাছে পাচ্ছেন না তাই অ্যামেচার থিয়েটারের অন্যতম গঙ্গাদাকে সামনে পেয়ে ওর ওপর দিয়েই ঝাল মেটালেন। অথচ ওঁর মধ্যে কোন লোকদেখানো ভণিতা ছিল না। উনি একই সঙ্গে অ্যামেচার ও প্রফেশনাল সিনেমায় অভিনয় করতেন।
ব্যাপারটা হল আমরা অনেকে ট্রেনে করে “দাদাঠাকুর” এর আউটডোর শুটিংয়ে যাচ্ছি। কয়েকজন একটা কামরায় আর অন্য কয়েকজন দূরে আরেকটা কামরায় ছিলেন। ছবিদার প্রবল হাঁপানির টান হলে রাত তিনটে-চারটে আবধি জেগে থাকতেন। রাত বারোটা নাগাদ মদ্যপান করে টং হয়ে বললেন “চল, ঘুরে আসি” । আমি বললাম “কোথায়?” বললেন “চল, গঙ্গার সঙ্গে গল্প করে আসি”।
আমি ছবিদাকে হাড়ে হাড়ে চিনি, তখনই বুঝেছি কোনও এক কারণে গঙ্গাদার পিলে চমকানোর ব্যবস্থা করছেন।
আমি ভীষন ঘুমকাতুরে ছিলাম, আমি যাবো না বলাতে একাই চলে গেলেন।
পরের দিন সকালে রবসনের কাছে পুরো গল্পটা শুনলাম।
গঙ্গাদা ঘুমিয়ে ছিল, ছবিদা চুপটি করে তার পায়ের পাশে বসে আস্তে আস্তে ধাক্কা দিয়ে বললেন” ও গঙ্গা, গঙ্গা, ঘুমোলে ভাই গঙ্গা?” রবসনের দিকে তাকিয়ে বললেন” কী ঘুম রে বাবা, গঙ্গাপ্রাপ্তি হল নাকি?”
গঙ্গাদা তড়াক করে জেগে উঠে বললেন “আরে, ছবিদা, ছি, ছি, আপনি পায়ের কাছে বসে আছেন?”
ছবিদা বললেন “ আরে, তোমার সঙ্গে গল্প করতে এলুম, ঘুম ভাঙালাম বলে কিছু মনে করলে না তো ভাই গঙ্গা?”
গঙ্গাদা বললেন “আরে না না, আপনার মতো একজন মহান লোক আমার সঙ্গে গল্প করতে এসেছেন, সে তো আমার সৌভাগ্য।“
ছবিদা কিছুই বলছেন না, গঙ্গাদার চোখ বুজে এসেছে।
হঠাত ছবিদা বললেন “ গঙ্গা যে সে লোক নয়, গঙ্গার পূণ্য জলে সব পাপ ধুয়ে যায় “।
“কি, ঘুমোলে ভাই গঙ্গা?”
গঙ্গাদা তো বুঝে ফেলেছেন যা বোঝবার, বললেন “না,না আপনি বলুন না।“
আবার খানিকক্ষন চুপ, গঙ্গাদাও ঢুলছেন। আবার ধাক্কা মেরে বললেন” এই গঙ্গা ভাই যে সে লোক নয়, মা গঙ্গা, আদি গঙ্গা, আমার বাড়ির সামনে টালির গঙ্গা, ওঁ গঙ্গা, মা গঙ্গার কত রূপ! কি ঘুমোলে ভাই গঙ্গা?”
এইভাবে পান করতে করতে ক্রমান্বয়ে গঙ্গাদার পেছনে লাগতে লাগতে রাত তিনটে বেজে গেল।
অবশেষে ছবিদা বললেন, এবার আমি ঘুমোতে চললুম, তুমিও ঘুমোও ভাই গঙ্গা, ততক্ষনে তো গঙ্গাদার ঘুম কপালে উঠেছে।
এইরকম ঠাট্টা তামাশার গল্প অনেক আছে।

